মোঃ মাঈনুদ্দিন বান্দরবান প্রতিনিধি।। বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় পরিবেশ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পাহাড় নিধন ও বন উজাড়ের মহোৎসবে মেতেছে ইউবিএম (UBM) ব্রিকফিল্ড। উপজেলার আমতলী পাড়ায় অবস্থিত এই ইটভাটার মালিক জামাল উদ্দিন (চেয়ারম্যান) এর বিরুদ্ধে পরিবেশ ধ্বংস, অবৈধ জ্বালানি ব্যবহার এবং শিশুশ্রমের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এমনকি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করেই তিনি এসব অপকর্ম চালাচ্ছেন বলে দম্ভোক্তি করেছেন ব্রিকফিল্ড কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিনে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, ব্রিকফিল্ডটির জ্বালানির চাহিদা মেটাতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ গাছ আশপাশের বনভূমি থেকে নির্বিচারে কেটে সাবাড় করা হচ্ছে। কয়লার পরিবর্তে বনের কাঠ পোড়ানোর ফলে ওই এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
ব্রিকফিল্ডটির প্রশাসনিক বৈধতা ও বন উজাড়ের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে কর্তৃপক্ষ কোনো প্রকার বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়। উল্টো দম্ভের সাথে তারা জানান:”প্রশাসনিক বিষয়গুলো আমরা ম্যানেজ করেই কাজ করছি।” কর্তৃপক্ষের এমন বক্তব্যে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, পরিবেশ আইন লঙ্ঘন হওয়া সত্ত্বেও প্রশাসন কেন নিরব ভূমিকা পালন করছে? অভিযোগ রয়েছে, ইউবিএম ব্রিকফিল্ডের মালিক জামাল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে পরিবেশ আইনে ইতিপূর্বেই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে তিনি এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে নির্বিঘ্নে বন উজাড়ের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
পরিবেশ ধ্বংসের পাশাপাশি এই ইটভাটায় দেদারসে শিশুশ্রম ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। এতে একদিকে শিশুদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় স্থানীয় জনজীবনে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিচ্ছে। ভবিষ্যতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জনজীবন রক্ষার্থে অবিলম্বে ইউবিএম ব্রিকফিল্ডের অবৈধ কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানিয়েছেন সচেতন এলাকাবাসী। তারা পাহাড় কাটা ও গাছ কাটা বন্ধে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং ব্রিকফিল্ডটির কার্যক্রম তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।
এবিডি.কম/শিরিনা